চাঁদাবাজির অভিযোগে ট্রাফিক পরিদর্শকের ভাই গ্রেফতার, বিচার চান মেয়র

Passenger Voice    |    ০৪:২৪ পিএম, ২০২৪-০৫-২৫


চাঁদাবাজির অভিযোগে ট্রাফিক পরিদর্শকের ভাই গ্রেফতার, বিচার চান মেয়র

কুমিল্লা নগরীর ‘চিহ্নিত চাঁদাবাজ’ আবদুল হাসান চৌধুরী অপুকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার (২৪ মে) গভীর রাতে তাকে তার মোগলটুলির বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কুমিল্লার ট্রাফিক পরিদর্শক জিয়াউল হক চৌধুরী টিপুর ছোট ভাই বলে জানা গেছে।

কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘অপুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে ৮/৯টি মামলা রয়েছে। এতদিন জামিনে ছিলেন। চাঁদাবাজি ও হামলার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।’

নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, জাতীয় পার্টির নেতা এয়ার আহমেদ সেলিমের ছেলে শাকিল আহমেদ রানা দাবি করেন, ‘অপু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ৫ নম্বর ওয়ার্ডে  যারাই নতুন বাড়ি নির্মাণ কিংবা সংস্কার করেন তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। এই চাঁদাবাজ চক্রটিও আমার সঙ্গেও একই আচরণ করেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বুধবার (২২ মে) রাত ১১টার দিকে অপু ও তার সঙ্গীরা গাড়ি থামিয়ে আমাকে আক্রমণ করে। আমাকে পিটিয়ে আহত করে। পরে আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি আসি। এরপর কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করি। পুলিশ রাতে তাকে গ্রেফতার করে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু চাঁদাবাজিই নয়, অপু নিজেকে পুলিশের সার্জেন্ট পরিচয় দিতেন। তার থেকে বাড়ির নির্মাণ সামগ্রী কেনার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। নির্মাণ সামগ্রী না কিনলে ট্রাক আটক করে তার পুলিশ পরিদর্শক ভাইয়ের কাছে নিয়ে যেতেন। তার সঙ্গে পরিবারের আরও কিছু সদস্য জড়িত আছেন।’

এর আগে শাকিল আহমেদ রানা তার ওপর হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টটি শেয়ার করেন কুমিল্লা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহসীন বাহার সূচনা। তিনি সেখানে চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে মেয়র সূচনা বলেন, ‘অপু একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তার বিষয়ে অনেক অভিযোগ পেয়েছি।’

পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই মেয়র বলেন, ‘যারাই এই নগরীতে চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করবে তাদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’

৫ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দা জানান, অপুর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। প্রতিনিয়ত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করেন। তার সাঙ্গপাঙ্গরা খোঁজখবর নেন কে বাড়িঘর তৈরি করছে। পরে অপু আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে চাঁদাবাজি করেন। তিনি আগেও চাঁদাবাজি করে জেল খেটেছেন। চাঁদাবাজি করতে গিয়ে পুলিশ পরিদর্শক ভাইয়ের প্রভাব খাটান।

এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল হক টিপু বলেন, ‘অপু আমার আপন ছোট ভাই নয়। এলাকার ছোট ভাই। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা নিয়ে তার সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।’

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান বলেন, ‘অপু নিজেকে ট্রাফিক সার্জেন্ট পরিচয় দেয় এ কথা আগে শুনিনি। তার ভাই ট্রাফিক পরিদর্শক জিয়াউল কি-না এটিও আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্যা/ভ/ম