তৃতীয় টার্মিনাল : নিম্নমানের পণ্য ঠেকাতে কঠোর বেবিচক

Passenger Voice    |    ০৫:১০ পিএম, ২০২২-০৭-০৫


তৃতীয় টার্মিনাল : নিম্নমানের পণ্য ঠেকাতে কঠোর বেবিচক

বিদেশ থেকে কেনার নাম করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে মানহীন ও নিম্ন গ্রেডের পণ্য; যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে নানান মহলে। রাষ্ট্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে মানহীন পণ্যের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বিষয়টি নজরে আসার পর কঠোর অবস্থানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পর দেশে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও যুগোপযোগী প্রকল্পের নাম তৃতীয় টার্মিনাল। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই প্রকল্প স্বপ্ন দেখাচ্ছে পুরো জাতিকে।

অথচ দেশবাসীর স্বপ্নের এই প্রকল্পে মানহীন ও নিম্নমানের পণ্যে ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে বিষয়টি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর বিদেশ থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিক তার ও বাল্বসহ বেশ কিছু পণ্য ঠিকাদারকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে সংস্থাটি।

অভিযোগ উঠেছে, দেশে আন্তর্জাতিক মানের সরকারি-বেসরকারি ক্যাবল কোম্পানি থাকলেও তাদের চেয়ে বেশি দামে বিদেশ থেকে নিম্নমানের কেবল ও বৈদ্যুতিকসামগ্রী আমদানি করা হয়েছে।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিং সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করেছে একটি ইউরোপীয় পণ্য। কিন্তু এই কাজের টেন্ডার যারা পায়নি, সেসব কোম্পানি গুজব ছড়াচ্ছে সিভিল এভিয়েশন অনেক বেশি দামে জিনিস নিচ্ছে। আমি যদি একটা কাজের জন্য ১০০ টাকা দিয়ে ফেলি, আমি চেষ্টা করব ১২০ টাকা দামের জিনিসটা আমার কাজে লাগাতে। এটা আমার লাভ। আমি কেন ১০০ টাকা দেওয়ার পরে ৫০ টাকা দামের জিনিস লাগাব।

শুধু তাই নয়, এসব তার আমদানি করতে গিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকার ভ্যাট ট্যাক্সও পরিশোধ করছে বেবিচক। জানা গেছে, সম্প্রতি কার্যাদেশ দেওয়া এ ধরনের একটি কেবল আমদানির চালানে ১০০ কোটি টাকার বেশি গচ্চা যাবে সরকারের। অথচ দেশীয় কোম্পানির আন্তর্জাতিক মানের তার কিনলে দিতে হবে না ভ্যাট-ট্যাক্স।

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম ইকবাল হোসেন বলেন, কিছু তার তারা বাইরে থেকে আনছে। বাইরে থেকে আনলে ২৫ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স সরকারকে দিতে হবে। আমরা কেন বিআরবি কিংবা ইস্টার্ন কেবল নিতে পারছি না। এদের তার কিন্তু তারা বিদেশে পাঠাচ্ছে। এখন আপনি প্রতিবার ২৫-৩০ কোটি টাকা করে ট্যাক্স দিচ্ছেন, এটা কার কাছে যাচ্ছে। ওদের কাছে চলে যাচ্ছে।

জানা যায়, কেনাকাটার জন্য প্রকল্পের মূল ঠিকাদার আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে সাব কনট্রাকটর নিয়োগ দিয়েছে। দুই সাব কনট্রাকটর আবার একাধিক সাব কনট্রাকটর নিয়োগ করে। যে কারণে একটি পণ্য কয়েক ধাপে কিনতে গিয়ে বাড়ছে দাম। লাভ করতে গিয়ে আমদানি করা হচ্ছে মানহীন পণ্য।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের টেন্ডারে স্পেসিফিকেশন দিয়েছি। সেটা ফলো করা হচ্ছে। যখনই দেখি এটা না মানার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখনই আমরা সেটা রোধে কয়েক পর্যায়ে সুপারভিশন করছি।

দেশের অন্যতম এই প্রকল্পে আর কোনো নিম্নমানের পণ্যে যাতে কোনো ঠিকাদার ব্যবহার করতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর মনিটরিং হচ্ছে বলে জানান বেবিচক চেয়ারম্যান।

পদ্মা সেতুর পর একটু একটু করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এই স্বপ্নের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প। এই প্রকল্পকে ঘিরে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তাদের নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার করতে। এটিকে যদি এখনই রোধ করা না যায়, তাহলে সেসব পণ্য এই প্রকল্পের জন্য খুব ভালো কিছু বয়ে আনবে না। তাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন, এই প্রত্যাশা সবার।