বন্যা পরিস্থিতিতে নৌকা তৈরির হিড়িক, কিনতে হচ্ছে চড়া দামে

Passenger Voice    |    ০৪:১২ পিএম, ২০২২-০৬-২২


বন্যা পরিস্থিতিতে নৌকা তৈরির হিড়িক, কিনতে হচ্ছে চড়া দামে

চারদিকে পানি থইথই। নৌকা ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় ডিঙি নৌকা তৈরির হিড়িক পড়েছে নেত্রকোনার মদন উপজেলায়। দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না কারিগররা। বিক্রিও হচ্ছে চড়া দামে। বাধ্য হয়েই চড়া দামে নৌকা কিনছেন ভুক্তভোগীরা।

নেত্রকোনার মদন উপজেলা হাওর এলাকা হওয়ায় সেখানে বছরে ছয় মাস শুকনা আর ছয় মাস পানি থাকে। তাই এলাকায় নৌকার ব্যবহার দীর্ঘদিনের। অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল থাকায় সারা বছরই নৌকা ব্যবহার করেন এসব এলাকার লোকজন। যাঁরা নৌকা ব্যবহার করে থাকেন, তাঁরা বর্ষা শুরুর আগেই তা তৈরি করে নেন। কিন্তু এ বছর হঠাৎ বন্যা হওয়ায় নৌকার সংকট দেখা দিয়েছে। তাই যাতায়াতের সুবিধার্থে ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে ঘরবন্দি অবস্থায় গ্রামের কৃষক পরিবারগুলো। যেখানে একটু উঁচু জায়গা আছে, সেখানেই শোনা যাচ্ছে হাতুড়ি-বাটলের শব্দ। একই স্থানে তিন-চারটি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। অনেকেই আবার নৌকা তৈরির বায়না করতে বসে আছেন কারিগরদের কাছে। কয়েকজন কারিগর আবার একত্রে নৌকা তৈরি করে বিক্রি করছেন। ছোট বড় একেকটি নৌকা বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকায়।

তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাগজান গ্রামের বাসিন্দা ধনাই মিয়া বলেন, ‘বন্যা পানি বসতঘরের পাশে। ঘর থেকে বের হতে নৌকার প্রয়োজন। চার দিন যাবৎ ছেলেমেয়েরা বের হতে পারছে না। তাই চলাফেরার জন্য নৌকা তৈরি করছি। খরচ একটু বেশি হচ্ছে। চলাচলের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় নাই। তাই খরচ বেশি হলেও ডিঙি নৌকা তৈরি করতেই হবে। ’

পৌর সদরের নৌকার কারিগর স্বাধীন মিয়া বলেন, ‘আমরা কয়েকজন কারিগর একসঙ্গে কাজ করছি। ৫০টির মতো ডিঙি নৌকা বিক্রি করেছি। পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকায় একটি নৌকা বিক্রি করা হচ্ছে। লোকজনের চাহিদা বেশি তাই আমরা এখন দম ফেলার সময় পাচ্ছি না। ’

নৌকা কিনতে আসা পরশখিলা গ্রামের আলী আহম্মদ বলেন, ‘বন্যার পানির জন্য রাস্তাঘাট সব ডুবে গেছে। তাই নৌকা কিনতে এলাম। যে নৌকা আগে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হতো সেই নৌকাটি এখন পাঁঁচ হাজার টাকা। নৌকার চাহিদা বেশি থাকায় কিছু করার নাই। ’