| শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজধানী ঢাকার যানজটমুক্ত দ্রুত যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম মেট্রোরেল। প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন লাখ যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে এই বৈদ্যুতিক গণপরিবহন ব্যবহার করছেন।
এই বিপুল সংখ্যক যাত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা, তল্লাশি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পুলিশ। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আনসার সদস্যদের পাশাপাশি দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশের এই বিশেষ ইউনিটের সদস্যরা।
এমআরটি পুলিশের জনবল কাঠামো এখনও পুরোপুরি নিজস্বভাবে গড়ে না ওঠায় দেশের বিভিন্ন জেলা পুলিশ থেকে সদস্যদের এনে এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম ও ডিউটির নীতি অনুযায়ী, এমআরটি পুলিশের একজন সদস্যকে মাসে সর্বনিম্ন ২১ দিন এবং পরিস্থিতি সাপেক্ষে তার বেশি ডিউটি পালন করতে হয়।
এই বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য তারা নির্ধারিত ভ্রমণ ভাতা (টিএ) ও দৈনিক ভাতা (ডিএ) বিল পেয়ে থাকেন। নীতি অনুযায়ী মাসে সর্বোচ্চ ১০ দিনের টিএ-ডিএ বিল দেওয়া হয়।
একজন পরিদর্শক বা সাব-ইনস্পেক্টর দৈনিক ১ হাজার ১২৭ টাকা হারে মাসে ১১ হাজার ২৭০ টাকা পান। পদমর্যাদা অনুযায়ী কনস্টেবল ৪ হাজার, নায়েক ৬ হাজার এবং এএসআই সাড়ে ৭ হাজার টাকা টিএ-ডিএ পান, যা থেকে সরকারি রাজস্ব কর্তন করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, এমআরটি পুলিশে দায়িত্ব পালনকারী সিলেট জেলা থেকে আসা সদস্যরা দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে তাদের এই ন্যায্য টিএ-ডিএ বিল পাচ্ছেন না। এমআরটি পুলিশের নিজস্ব বেতন কোড না থাকায় শূন্য পদ অনুযায়ী কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা পুলিশে ডিসপাস বা যুক্ত রাখা হয়েছে। সিলেট থেকে আসা সদস্যরা নিয়মিত বেতন পেলেও জেলাভিত্তিক টিএ-ডিএ খাতের বাজেট সংকটের কারণে এই দীর্ঘ বকেয়া তৈরি হয়েছে।
এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ মহসিন দেশীয়গণমাধ্যম বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অন্যান্য জেলা থেকে আসা সদস্যদের হয়তো দুই থেকে চার মাসের বিল বাকি থাকতে পারে এবং বাজেট এলেই তা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের সিলেট জেলা পুলিশে যুক্ত করা হয়েছে, তারা বাজেট সংকটের কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে কোনো টিএ-ডিএ বিল পাচ্ছেন না, যা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ডিউটি পালন করতে হয় এমআরটি পুলিশ সদস্যদের। গত আগস্ট মাসে নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো সদস্যকে ছুটি দেওয়া হয়নি। নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি এপিবিএন সদস্যদের এনে দুই শিফটে অতিরিক্ত ডিউটি দেওয়া হয়েছিল।
এমআরটি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এমআরটি পুলিশের জন্য সরকার কর্তৃক মোট মঞ্জুরীকৃত জনবল ২৮৩ জন হলেও বর্তমানে কর্মকর্তা ও ফোর্স মিলিয়ে ৫১৯ জন কাজ করছেন। মঞ্জুরীকৃত পদের তুলনায় অতিরিক্ত সদস্য কাজ করলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে ঘাটতি রয়েছে। ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাসহ বর্তমানে এমআরটি পুলিশের মোট ৫২১ জন সদস্য মেট্রোরেল ব্যবস্থার নিরাপত্তায় নিয়োজিত। পুলিশ সুপার পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন, ডিপো এলাকা, ডিএমটিসিএলের প্রশাসনিক ভবন এবং পুলিশ লাইন্সের নিরাপত্তাসহ সার্বিক এমআরটি ব্যবস্থার নিরাপত্তায় এই সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি মেট্রোরেলে দায়িত্ব পালনকারী এমআরটি পুলিশ সদস্যরা যাত্রীদের তল্লাশির সময় বেশ কয়েকটি মাদকের চালান জব্দ করতে সক্ষম হয়েছেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর সচিবালয় স্টেশন থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ শিউলি নামে এক নারীকে আটক করা হয়। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর রাতে একই স্টেশন থেকে ১ হাজার ৬০৬টি ইয়াবাসহ সজীব মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে এমআরটি পুলিশ। গত ১৭ আগস্ট মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন থেকে ১ হাজার ৭০২ পিস ইয়াবাসহ জামাল মোল্লা নামে এক যুবককে আটক করা হয়। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বকেয়া টিএ-ডিএ বিল দ্রুত পরিশোধের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের কাজের মনোবল ধরে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র বাংলা নিউজ ২৪